বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ
ভক্তদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন কিংবদন্তি ফুটবলার বিদ্যালয়ের জায়গা জোরপূর্বক দখল ও চারা রোপন কৈতক ট্রমা সেন্টার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন এমপি মানিক ছাতকে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণী সম্পন্ন জমির খাজনা অনলাইনে ছাতক উত্তর সুরমা প্রবাসী কল্যাণ সোসাইটির অাত্মপ্রকাশ ছাতকে অানুষ্টানিক ভাবে উদ্বোধন হলো খাঁজা ট্রাভেলস যদি আমাকে ভালোবাসিস, তবে সুরা ইয়াসিন পড়ে দোয়া করিস সুনামগঞ্জ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত তাহিরপুরে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ তাহিরপুরে মাদ্রাসায় নিয়োগে অনিয়ম- ৩০ লক্ষ টাকা ঘুষের অভিযোগ  দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার করোনায় আক্রান্ত সুনামগঞ্জের দোযারাবাজারে ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষক আটক(১) সাংবাদিক আরিফুর রহমানের পিতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ জন প্রশাসনের অতিরিক্ত সচিবের সাথে মতবিনিময়
যদি আমাকে ভালোবাসিস, তবে সুরা ইয়াসিন পড়ে দোয়া করিস

যদি আমাকে ভালোবাসিস, তবে সুরা ইয়াসিন পড়ে দোয়া করিস

শেয়ার করুনঃ

“পাহাড়ের কান্না দেখে তোমরা তাকে ঝরণা বলো,
ওই পাহাড়টা বোবা বলেই কিছু বলে না,
তোমরা কেন বোঝো না যে,
কারো বুকের দুঃখ নিয়ে কাব্য চলে না।।”

দ্বীপচান। পংখীরাজের মতো উড়াল দিতে চায়। শু শু করে চলছে পংখীরাজ। জানালার কাঁচ নামানো হয়েছে বহু আগেই। শহরের আলো দূরে যাবার সাথে সাথেই গাড়ির কাঁচ নামানো হয়ে যায়।
বাইরে রুপালী আলো। চাঁদের সাথে কি অদ্ভুত মিতালী। মাধবপুরের পর থেকেই আলোর পশরা বেড়েই চলেছে।
দ্বীপচান যেনো পংখীরাজের ডানায় ভর করেছে।

নিশান পেট্রোলের গতি ১০০র নীচে নামাতেই চায় না। বাতাসের বেগে চুল উড়ে যাচ্ছে।
গতির সাথে আমার ভয় বাড়ে। চোখ বন্ধ করি। সামনের সীটে বসা প্রীতেশ। তার অভ্যাস হয়ে গেছে। সে ভয়হীন। তবে নির্বিকার। মাঝে মাঝে মাথা ঝুলায়।

কিন্তু চাঁদের আলোতে মৃত্যু ভয় ফিকে হয় আমার। গাড়ির গতির সাথে রুপালী পসর পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। দুরের ধানক্ষেত, বাঁশঝাড়, নদীর চিক চিক পানি, মাথায় নেশা ধরায়।

হঠাৎ দেখি পাহাড়ের ঝর্না বেয়ে নেমে যাচ্ছে পাশের সীটে বসা যাত্রীর চোখ, গাল, নাক ঠোঁট বেয়ে।

গানের কথার সাথে বুকের কান্নার কি দারুণ উপমা।

“কারো মনে দুঃখ দিয়ে কাব্য চলে না”।
একটা গান শেষ হয়। আরেকটা শুরু। এভাবে একটার পর একটা।

‘দিন যায় কথা থাকে’, ‘আমার এ দুটি চোখ পাথর তো নয়’, ‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই’, ‘আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি’, ‘হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে’, ‘তুমি এমনই জাল পেতেছ’, ‘বন্ধু হতে চেয়ে তোমার’, ‘কতো যে তোমাকে বেসেছি ভালো’, ‘কেন ভালোবাসা হারিয়ে যায়’, একটা ছিল সোনার কইন্যা’, ‘ও আমার উড়াল পঙ্খীরে’।

যেন কেসেট প্লেয়ার বেজেই চলছে। গান শেষ হয় না।

কাঁচপুর পার হয়ে গান থামে। একই ভাবে ঢাকা থেকে
যাবার সময়েও কাঁচপুরের পর গান শুরু হয়। লালাবাজার গিয়ে শেষ হয়।

সিলেট -ঢাকা আসা যাওয়ার সময় যতবার মেয়র কামরান সাহেবের সাথে এসেছি ততোবারই একই সিকোয়েন্স।

উনি প্রায়ই বন্ধু বান্ধব কাউকে না পেলে আমাকে বাসা থেকে তুলে আনতেন।

এমনভাবে ডাকতেন, “আউরে বা। এখলা এখলা যাইমু। তুমি থাকলে ভরসা লাগে। মাতামাতির লোক পাই। গানের সমঝদার লাগে। তুমি বাউল মানুষ। কবিতা লেখো। ভাব আছে। আউরে বা।”

না করতে পারতাম না।
কি এক সম্মোহনী শক্তি। না করার শক্তি পেতাম না।
পংখীরাজে উঠতাম। মেয়র সাবের গাড়িকে আমরা পংখী রাজ বলতাম।
চালক ছিলেন দ্বীপচান। এখনো আছেন কি না জানি না।

উনার সাথে থাকতে থাকতে আমিও আসক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। মূলত এই গানের কারনে। সুবীর নন্দী বা মান্না দে যদি জানতেন উনাদের প্রায় সব গান এই মানুষটি মূখস্থ করে রেখেছেন। কোনও ধরনের বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই ঘন্টার পর ঘন্টা গেয়ে যেতে পারেন।

কী আবেগ দিয়ে গানের কথাগুলি বেরিয়ে আসে। যেন গলা দিয়ে নয় হৃদয় দিয়ে বন্ধ চোখের কোনা দিয়ে গানের কথাগুলি ভিজে ভিজে নীচে নামে।

এই আবেগের কাছে আমি আসক্ত হয়ে গেছিলাম।
একদিন সুবীর দাকে হোটেল পূর্বানীতে এনেছিলাম। কামরান সাবের জন্মদিন উপলক্ষে। উনাকে সারপ্রাইজ দিতে। কামরান সাব যতোটুকু না সারপ্রাইজড হয়েছিলেন তার চেয়ে বেশী সারপ্রাইজড হয়েছিলেন সুবীর নন্দী। এতো গান যে উনার নিজেরই মূখস্থ নাই।

আহা যদি মান্না দে কে আনতে পারতাম।

রাজনীতিবিদের বাইরে কামরান সাবের যে একটি অন্য রকম হৃদয় ছিলো, আমি সেই হৃদয়ের কাছাকাছি ছিলাম বলেই আজ পাহাড়ের মতো বোবা হয়ে গেছি।
কান্নাও আসছে না। লিখতেও পারছি না। যেন পাহাড়ের বুকের ঝর্নাটা আমার বুক দিয়ে বয়ে যাচ্ছে।

আমি যেন দ্বীপচানের পংখীরাজে কামরান স্যারের পাশে বসা আছি।

একদিন গান থামিয়ে চোখ বন্ধ করে বললেন, মেজর ( উনি নিজেকে সেনাপতি আর আমাকে উনার মেজর ভাবতেন, মজা করে), আমি মারা গেলে কি করবি? খুব কি কানবি?
উত্তর দিয়েছিলাম, না। আমি সারাদিন সুবীর নন্দীর এই গান শুনবো। পাহাড়ের কান্না দেখে…।

চোখ বন্ধ করে বললেন, আমি মরে গেলে যা ইচ্ছা করিস। আমি দেখবো না। যদি আমাকে ভালোবাসিস, তবে সুরা ইয়াসিন পড়ে দোয়া করিস।

একবার রোজার মাসে দুপুর বেলা হঠাৎ ফোন করে বললেন, অফিসে আয়। গিয়ে দেখি, পাশের রেষ্ট রুমে কোরান শরীফ পড়ছেন। আর চোখ দিয়ে গড় গড় করে পানি পড়ছে।

আমি অনেকক্ষণ তাকিয়েছিলাম।
উনার দেখাদেখি আমারও কান্না আসছিলো।
পড়া শেষ করে বললেন, যদি কেউ কষ্ট দেয়, কোরান শরীফ পড়বি। কষ্ট চলে যাবে।

প্রিয় কামরান স্যার। আজ যে সুবীর নন্দীর কোনও গানই আমার মনে পড়ছে না। সারাদিন পাহাড়ের কান্না দেখছিলাম শুধু।
একটি লাইনও মনে করতে পারছি না।

সুরা ইয়াসিন পড়লাম। দুই পারা কোরান শরীফ পড়লাম।
কই কষ্ট তো যাচ্ছেনা।

আপনি অনেক কষ্ট দিয়ে গেলেন। অনেক। অনেক।
সিলেটের লক্ষ লক্ষ মানুষকে কষ্ট দিয়ে গেছেন।
এভাবে যেতে পারেন না। মোটেও না।
খুব কষ্ট হচ্ছে।।।

 

লিখেছেন : শাহরিয়ার বিল্পব

শেয়ার করুন

Sylhet24Live.Com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY POS Digital