মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ০৭:২৮ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ
গৃহবধু ফুলেছা হত্যাকান্ডে দুই আসামীসহ ৭ জন কারাগারে ছাতকে মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অনলাইন প্রেসক্লাবের অালোচনা সভা অনুষ্ঠিত সন্ত্রাসী সোহেল জেল হাজতে সিলেটের বাদাঘাটে বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের উদ্বোধন ছাতকে চরেরবন্দ গ্রামবাসীর তাফসিরুল কুরআন মাহফিল সম্পন্ন মাতৃভাষা দিবসে ছাতক অনলাইন প্রেসক্লাবের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ছাতকে চমক স্মৃতি ক্রিকেট ক্লাবের ফাইন্যাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত দক্ষিণ সুনামগঞ্জে সনাতন ধর্মালম্বীদের পূজামন্ডবে দুস্কৃতিকারীদের হামলা ৩ রোহিঙ্গাসহ এক বাংলাদেশী নাগরিক আটক নবীগঞ্জে হিজরাদের হামলায় কাউন্সিলের ভাই আহত, সিলেট প্রেরণ।। আটক ১ ছাতকে একতা শিল্পী গোষ্ঠী’র কমিটি গঠন, পরিচালক জয়নাল, সহকারী পরিচালক ছোটন ছাতকে পালিত হলো উৎসর্গ ফাউন্ডেশন এর ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ছাতকে রাত পোহালেই একতা শিল্পী গোষ্ঠী’র দায়িত্বশীল নির্বাচন অনুষ্ঠান নরসিংদীর হতে পালিয়ে আসা হত্যা মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার তাহিরপুরে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার
কারিগরি শিক্ষার্থীদের চার দাবি, বোর্ড ঘেরাও

কারিগরি শিক্ষার্থীদের চার দাবি, বোর্ড ঘেরাও

শেয়ার করুনঃ

 

করোনাকালে হয়ে যাওয়া ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চার দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন কারিগরি বোর্ডের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে রাজধানীর আগারগাওয়ে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ইতিমধ্যে মানববন্ধন, বিক্ষোভসহ কয়েক দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন তারা।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে চার বছরের ডিপ্লোমা করানো হয়। চার বছরে মোট আটটি সেমিস্টার। আগস্ট মাসে ভর্তি হয়ে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত (আগস্ট-জানুয়ারি) সেমিস্টার অনুষ্ঠিত হয়। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই ধারায় বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে।

করোনার কারণে প্রায় ১১ মাস ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় ইতিমধ্যে তারা দুই সেমিস্টার পিছিয়ে পড়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিক্ষামন্ত্রণালয় ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কাছে চারটি দাবি জানিয়েছেন তারা।

দাবিগুলো হল- ইতোমধ্যে এক বছরের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে দেয়া। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়, পঞ্চম ও সপ্তম পর্বের জন্য সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত ক্লাস শুরু এবং সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নেয়া। সব ধরনের অতিরিক্ত ফি প্রত্যাহার করা এবং প্রাইভেট পলিটেকনিকে সেমিস্টার ফি অর্ধেক করা। এবং ডুয়েটসহ সব প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করে তা চলতি বছরের মধ্যে কার্যকর করা।

উপরের চার দফা দাবি আদায়ের জন্য সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে একাধিক গ্রুপ করে সেখানে নিজেদের দাবির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে তারা।

পলিটেকনিক আন্দোলনের মুখপাত্র ও কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান লিমন সময় নিউজকে জানান, আমরা কারিগরি শিক্ষার্থীরা মূলত হাতেকলমে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করি। আমাদের প্রতিটি বিষয়ে (সাবজেক্ট) ২০০ নাম্বরের মধ্যে ৯০ লিখিত ও ১১০ নম্বর প্রাকটিক্যাল। এখানে আমাদের পিছিয়ে পড়া সেমিস্টারগুলোর লিখিত পরীক্ষাটা অটোপ্রোমোশন এবং প্র্যাকটিক্যালটা পরের সেমিস্টারের সঙ্গে যুক্ত করে পরবর্তী সেমিস্টারে উন্নীত করা হবে। তাহলে এক বছরের যে গ্যাপ হয়েছে সেটা আমাদের পুশিয়ে যাবে।

দাবি আদায়ে সোমবারের কর্মসূচিতে অংশ নিতে ঢাকার বাইরে থেকেও শিক্ষার্থীরা আসছেন বলে জানিয়েছেন লিমন।

এর আগে একই দাবিতে গত বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করতে গেলে কদম ফোয়ারার কাছে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন। পরে তারা ব্যারিকেডের ভেতরেই বিক্ষোভ করেন।

এ বিষয়ে বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী খায়রুল আলম সময় নিউজকে বলেন, আমাদের কোনো ক্লাস কিংবা সংক্ষিপ্ত সিলেবাস দেয়া হয়নি। তাহলে পরীক্ষা দেব কিভাবে? কারিগরি শিক্ষা তো হাতে কলমে শিক্ষা। ক্লাস ছাড়া, ব্যাবহারিক শিক্ষা ছাড়া কিভাবে পরীক্ষা হবে? হঠাৎ করে পরীক্ষা ঘোষণা দিয়ে আমাদের বিপদে ফেলা হয়েছে। এজন্য আমরা সংক্ষিপ্ত সিলেবাস দিয়ে, দ্রুত ক্লাস চালু করে পরে পরীক্ষা নেয়ার দাবি করছি।

ড্যাফোডিল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিটের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান মুহিত সময় নিউজকে বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, ডিপ্লোমাতে ভর্তি হয়ে জীবনের সবচেয়ে বড় পাপ করছি। এমনিতেই দুই সেমিস্টার ক্ষতি হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা হাতে কলমে শিক্ষা, অনলাইনে ক্লাস করে তেমন কিছুই শিখতে পারিনি। এজন্য যৌক্তিক চার দাবি মেনে নেয়ার অনুরোধ করছি।

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম বলেন, আমাদের ওপর হঠাৎ করে একটি পরীক্ষা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা যখন নতুন সেমিস্টারে উঠি সেই মুহূর্তে কলেজ বা ইন্সটিটিউট বন্ধ হয়ে যায়। এখন আমাদের ৬ মাসের বই ২০ দিন পরে পরীক্ষা দিতে বলছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, করোনার মধ্যে দেশজুড়ে শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের জন্য সেমিস্টার ফি ও অতিরিক্ত ফি প্রদান অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের অনেকেরই ঝরে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। এজন্য অতিরিক্ত ফি আদায় ও সেমিস্টার ফি আদায় চরম অমানবিকতার পরিচয়। অবিলম্বে সেমিস্টার ফি ও অতিরিক্ত ফি মওকুফের দাবি জানান তারা।

শেয়ার করুন

Sylhet24Live.Com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY POS Digital