২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসকে বয়কট করে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে পাঁচ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট শুক্রবার (২৮ মার্চ) একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের হাজী কনু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারি প্রধান শিক্ষক মোঃ জয়নাল আবেদীন, সহকারি শিক্ষক মোঃ নিজাম উদ্দিন, জমশিদ আলী, হেলাল আহমদ ও জুলফিকার আলম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাজী কনু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় সকল রাষ্ট্রীয় দিবস পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত বুধবার (২৬ মার্চ) যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু ওইদিন বিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষক রাষ্ট্রীয় দিবসকে অবজ্ঞা করে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে অনুমতি না নিয়ে সেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন। এদিন তাদেরকে প্রধান শিক্ষকের তরফ থেকে মোবাইলে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাজী কনু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারি শিক্ষক হেলাল আহমদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমিসহ আমরা পাঁচ শিক্ষক ওইদিন বিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলাম। ওই দিন ছাত্রলীগের একটি গ্রুপের সাথে স্থানীয় আরেকটি গ্রুপের ঝামেলা চলছিল। ঝামেলা চলাকালে আমরা কিছুক্ষনের জন্য দূরে ছিলাম। আমরা স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বয়কট করিনি।’
এব্যাপারে হাজী কনু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাফিজ আলী বলেন, ‘পাঁচ শিক্ষক আমার সাথেই ভোরে পুষ্পকস্তবক অর্পন করেন কিন্তু পরবর্তীতে তাঁরা স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় অনুপস্থিত ছিলেন। কিন্তু কেন বা কি কারণে তাঁরা আলোচনা সভায় অনুপস্থিত ছিলেন এব্যাপারে তারাই ভালো বলতে পারবেন।’
অভিযোগের বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘শুনেছি হাজী কনু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ এসেছে। রাষ্ট্রীয় দিবস বয়কট করার কোনো নিয়ম নেই। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখব। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।